Twitter

Follow palashbiswaskl on Twitter

Thursday, October 31, 2013

গ্যাসে ভর্তুকি পেতে আধার চালু কাল

গ্যাসে ভর্তুকি পেতে আধার চালু কাল

gas
এই সময়: আগামিকাল, শুক্রবার থেকে কলকাতা, হাওড়া ও কোচবিহারে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারে ভর্তুকি পেতে আধার কার্ড চালু হচ্ছে৷ যে সমস্ত গ্রাহক ইতিমধ্যেই রান্নার গ্যাসের ডিস্ট্রিবিউটর এবং ব্যাঙ্কে তাঁদের আধার নম্বর নথিভুক্ত করেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ভর্তুকির টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেই জমা পড়বে৷ তবে এখনও পর্যন্ত কলকাতার প্রায় ১০ লক্ষ গ্রাহকের মধ্যে মাত্র ৩.৬ শতাংশ গ্রাহক ডিস্ট্রিবিউটরের কাছে তাঁদের আধার নম্বর নথিভুক্ত করেছেন৷ হাওড়া এবং কোচবিহারের ক্ষেত্রে নথিভুক্তকরণের হার যথাক্রমে ৭ এবং ১৬.৫ শতাংশ৷ ফলে অধিকাংশ গ্রাহকই এই সুবিধা পাবেন না৷

রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলির তরফে জানানো হয়েছে, যাঁরা এখনও আধার কার্ড পাননি, অথবা গ্যাসের ভর্তুকি পাওয়ার জন্য ডিস্ট্রিবিউটর এবং ব্যাঙ্কে তাঁদের আধার নম্বর নথিভুক্ত করাননি, তাঁরা ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ভর্তুকিতে গ্যাস সিলিন্ডার পাবেন৷ অর্থাত্‍, তাঁরা আপাতত ৪১২ টাকা ৫০ পয়সা দরেই সিলিন্ডার পাবেন৷ তবে ৩১ জানুয়ারির পর তাঁদের ভতুর্কিহীন দরেই সিলিন্ডার কিনতে হবে৷ অন্য দিকে, যাঁদের আধার নম্বর নথিভুক্ত করা আছে, সেই গ্রাহকদেরও ভর্তুকিহীন দরে সিলিন্ডার কিনতে হলেও ভর্তুকির টাকা সরাসরি পৌঁছে যাবে তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে৷ বর্তমানে কলকাতায় ভর্তুকিহীন গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ১০৩৫ টাকা ৫০ পয়সা৷ প্রতি মাসের ১ তারিখে দর-পরিবর্তনও হয়৷

ইন্ডিয়ান অয়েলের কলকাতা অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (এলপিজি) রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, 'যাঁদের নম্বর গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটর, ব্যাঙ্ক এবং পেমেন্ট কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়াতে নথিভুক্ত হয়ে গিয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে গ্যাস বুক করার সঙ্গে সঙ্গেই ভর্তুকির টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়বে৷ সিলিন্ডার নেওয়ার সময় অবশ্য তাঁদের ভর্তুকিহীন দরই দিতে হবে৷'

রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলির সূত্রেই অবশ্য জানা যাচ্ছে, কলকাতায় রান্নার গ্যাসের অধিকাংশ গ্রাহকই আধার নম্বর পাননি৷ পাশাপাশি, সরকারি সুবিধা ও পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে আধার বাধ্যতামূলক নয় বলে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরে রান্নার গ্যাসের ভর্তুকি পাওয়ার ক্ষেত্রে আধার নম্বর জানানো নিয়ে এ রাজ্যের গ্রাহকদের মধ্যে বিভ্রান্তিও তৈরি হয়েছে৷ এই দু'য়ে মিলেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ভর্তুকির টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে যা জরুরি, সেই আধার নম্বর নথিভুক্তিকরণের কাজ বহু গ্রাহকই করেননি৷ যদিও আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে৷ তবে এর আগে যে সমস্ত শহরে এই ব্যবস্থা চালু হয়েছে, সেখানেও প্রাথমিক সাড়া কলকাতার মতোই ছিল৷ পরে তা বাড়ে৷

ঝলমলে আতসবাজির কালো জগত্‍

ঝলমলে আতসবাজির কালো জগত্‍

crackers
বাসবদত্তা সরকার

আপনাদের কি খেয়েদেয়ে কাজ নেই? বছরে এই ক'টা দিন ওরা রোজগার করে৷ সেটাও আপনাদের সহ্য হচ্ছে না? চায়ের দোকানে বসে থাকা টহলদার পুলিশ অফিসার প্রায় ধমক দিলেন৷ বারাসতের কাছে নারায়ণপুরের ঘরে ঘরে শুরু হয়ে গিয়েছে বাত্‍সরিক বাজি তৈরির কাজ৷ এ বার বৃষ্টি থামতেই চাইছে না৷ শুকনো আবওহাওয়া বাজি তৈরির অনুকূল৷ টানা বৃষ্টিতে আকাশের মতো ওদের মুখও তাই ভার৷ ওরা বাজি তৈরি করে বাবুদের ঘরে পৌঁছে দেয়৷ 'বাবুরা সব কাজ বুঝে টাকা ধার দেয়৷ বাবুদের বেশিরভাগ লাইসেন্স রয়েছে,' বুক ঠুকে দাবি করে নরেন৷ তবে লাইসেন্সের সীমায় এত বাজির মশলা আমদানি কি সম্ভব? সে ব্যাপারে বাবুদের ঠিকাদার নরেনের মুখে কুলুপ৷

বাড়ির উঠোনে লম্বা চওড়া ত্রিপল বিছিয়ে কাজ চলছে৷ বাড়ির ছোটবড় সব সদস্যই হাত লাগিয়েছে৷ কারও বয়স বিশ তো কারও দশের কোঠাও অতিক্রম করেনি৷ হাতে গ্লাভস বা বিষাক্ত রাসায়নিক থেকে শরীরের চামড়া রক্ষার মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা খালি চোখে ধরা পড়ল না৷ ওরা শুধু জানে যে ধারে কাছে বিড়ি খাওয়া বা দেশলাই জ্বালান নিষেধ৷ বাড়িতে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা থাকার সম্ভাবনা দূর অস্ত৷ ওরা জানে আগুন লাগলে পুকুরের জল ঢাললেই চলে৷ পুকুরটা কতদূর? 'ওই তো!' হাতের আঙুল লম্বা হয়, কিন্ত্ত তার শেষ প্রান্তে কোনও পুকুর চোখে পড়ে না৷ অর্থাত্‍ আগুন লাগলে এই ঘন বসতিপূর্ণ অঞ্চলে শুধু উত্‍পাদিত বাজি নয়, প্রাণরক্ষা করাও বেশ মুশকিল৷ জীবন বিমার কথা বলতে আবদুলদের মুখ সেই যে হাঁ হল, বন্ধ হওয়ার কোনও লক্ষণ দেখা গেল না৷ বিমার বিষয়টা ওদের সম্পূর্ণ অজানা৷ অথচ বাজি তৈরি দারুণ ঝুঁকির কাজ৷ দুর্ঘটনাও ঘটছে নিয়মিত৷

প্রশাসন রয়েছে নিজস্ব জায়গায়৷ পুরো গ্রামের কর্মসংস্থানের প্রশ্ন যেখানে জড়িত, সেখানে ভিমরুলের চাকে ঢিল মারতে যাবে কে? এর সঙ্গেই জড়িয়ে আছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি জেলার বিশাল ভোটব্যাঙ্কও৷ এতগুলো মানুষের রুজি রোজগার বন্ধ করার ঝুঁকি তাই কেউই নিতে চায় না৷ নিন্দুকেরা অবশ্য বলছে সব বন্দোবস্ত করা রয়েছে৷ নরেন বলল খাঁটি কথাটা, 'মশাই, আমরা বাজি না তৈরি করলে, এত সস্তায় বাজি পেতেন? আইন মেনে করলে খরচ কত পড়বে জানেন?'
ঝলমলে আতসবাজির প্রেক্ষাপট কেন কালো এতক্ষণে তা বোঝা গেল!

মুকুল-চিদম্বরম আচমকা বৈঠকে নতুন জল্পনা

মুকুল-চিদম্বরম আচমকা বৈঠকে নতুন জল্পনা

এই সময়, কলকাতা এবং নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরমের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক মুকুল রায়ের আচমকা বৈঠক ঘিরে জল্পনা শুরু হল দলের অন্দরে-বাইরে৷ মাত্র দশ দিন আগে দলের ২৮ জন সাংসদ মুকুলবাবুর নেতৃত্বে রাজ্যের প্রতি আর্থিক বঞ্চনার অভিযোগ নিয়ে চিদম্বরমের কাছে স্মারকলিপি দেন৷ তার পর বৃহস্পতিবার ফের কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে কেন মুকুলবাবুর বৈঠকের দরকার পড়ল, তা নিয়ে দলের ভিতরেই নানা প্রশ্ন উঠেছে৷ 

তৃণমূলের একটি সূত্রের খবর, সারদা কেলেঙ্কারির তদন্তে দু'টি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি এবং এসএফআই-ও যে ভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে, তাতে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব রীতিমতো আতঙ্কিত৷ তাঁদের আশঙ্কা, ওই দুই সংস্থা অচিরেই তৃণমূলের কয়েকজন নেতা-মন্ত্রীকে জেরা করার জন্য ডাকতে পারে৷ বৃহস্পতিবার সকালেই মুকুলবাবু বেলা তিনটের সময় দেখা করার জন্য চিদম্বরমের অ্যাপয়েন্টমেন্ট চান৷ দলের ওই সূত্রটি বলছে, দলের নেতা-মন্ত্রীদের যাতে ইডি এবং এসএফআইও জেরা না-করে, তার আর্জি জানাতেই মুকুলবাবু কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন৷ কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক সূত্রের খবর, মুকুলবাবু অর্থমন্ত্রীকে প্রস্তাব দিয়েছেন, একান্ত প্রয়োজন হলে ওই দুই তদন্তকারী সংস্থা যেন দলের নেতা-মন্ত্রীদের কাছে প্রশ্নাবলি পাঠিয়ে জবাব জেনে নেয়৷ মুকুলবাবু অবশ্য এই কথা মানতেই রাজি নন৷ চিদম্বরমের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, 'ইডি এবং এসএফআইও তাদের মতো করে সারদা-কাণ্ডের তদন্ত করছে৷ তাদের তদন্ত নিয়ে আমরা ভাবছি না৷ আপনারা বললেন, তাই জানলাম৷' মুকুলবাবুর দাবি, 'রাজ্যের দাবিদাওয়া নিয়ে কিছু বিষয় স্পষ্ট করার ব্যাপার ছিল৷ তাই দিল্লিতে এসেছি৷ অন্য কোনও বিষয়ে কথা হয়নি৷' 

আজ শুক্রবারই রাজ্যের আর্থিক দাবি নিয়ে চিদম্বরমের সঙ্গে কথা বলতে দিল্লি আসছেন অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র৷ তার আগে ফের মুকুলবাবুকে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করতে হল কেন? তৃণমূল নেতা বলেন, 'আগের বার আলোচনা করে কলকাতায় ফেরার পর আমাদের মনে হয়েছে, আরও কিছু বিষয়ের ব্যাখ্যা জরুরি ছিল৷ তাই এসেছি৷ রোজ রোজ তো আর ২৮ জন সাংসদকে নিয়ে আসা যায় না৷' 

দলের সাসপেন্ড হওয়া সাংসদ কুণাল ঘোষ ইডি এবং এসএফআইও-র তদন্তকারী অফিসারদের জেরায় এবং পরে সাংবাদিকের সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে সারদা-কাণ্ডে একের পর এক দলের নেতা-মন্ত্রীর নাম প্রকাশ্যে আনছেন, তাতে তৃণমূল নেতৃত্ব যথেষ্টই অস্বস্তিতে৷ কুণালবাবু আবার কবে কোন নেতার নাম জানাবেন, তা নিয়ে শাসকদলে আতঙ্কের আবহ তৈরি হয়েছে৷ তার উপর দলের আর এক বিদ্রোহী সাংসদ সোমেন মিত্র জানিয়েছেন, কালীপুজোর পর তিনি দল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দেবেন৷ তাঁর স্ত্রী চৌরঙ্গির তৃণমূল বিধায়ক শিখা মিত্রও দল ছেড়ে কংগ্রেসে যাচ্ছেন বলে সোমেন শিবিরের দাবি৷ বৃহস্পতিবার সোমেনবাবু বলেন, 'আমি তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে যাচ্ছি৷ তবে দিনক্ষণ এখনও ঠিক করিনি৷' তাঁর দাবি, কংগ্রেসে তিনি যথাযোগ্য মর্যাদাই পাবেন, যা তৃণমূলে পাচ্ছেন না৷ ইতিমধ্যে সোমেনবাবুর সঙ্গে কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের কথাও হয়ে গিয়েছে৷ 

মিত্র দম্পতির সঙ্গে আরও এমএলএ-এমপি দল ছাড়বেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়৷ তবে এই দম্পতি সাংসদ এবং বিধায়ক পদে ইস্তফা দিয়েই কংগ্রেসে যাবেন, যাতে তৃণমূল নেতৃত্ব তাঁদের লোভী বলতে না পারেন৷ দল ছাড়ার পর সোমেনবাবুরা আরও কত কী বলবেন তৃণমূলের বিরুদ্ধে, সেটাও দলের নেতৃত্বের একটা চিন্তার বিষয়৷ এর একটা বড় কারণ হল, সারদা-কাণ্ড প্রকাশ্যে আসার আগেই সোমেনবাবু সারদা-সহ আরও নানা বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে চিঠি দিয়ে দলের বিরাগভাজন হয়েছিলেন৷

বাসে আগুন, বেরোতে না পেরে জীবন্ত দগ্ধ ৪৪

বাসে আগুন, বেরোতে না পেরে জীবন্ত দগ্ধ ৪৪
Volvo bus fire AP
হায়দারাবাদ: রাস্তার ডিভাইডারে ধাক্কা লেগে আগুন লেগে গেল বেঙ্গালুরু থেকে হায়দরাবাদ-গামী একটি ভলভো বাসে৷ স্বয়ংক্রিয় ভাবে বন্ধ দরজা খুলতে না পারায় বাসের মধ্যেই জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মারা গেলেন কমপক্ষে ৪৫ জন যাত্রী৷


বুধবার ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ অন্ধ্রপ্রদেশের রাজধানী হায়দরাবাদ থেকে ১১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মহবুবনগরে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে৷ তবে বাসের চালক, ক্লিনার এবং পাঁচ জন যাত্রী কোনওক্রমে জ্বলন্ত বাসের জানলা গলে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন৷ মঙ্গলবার রাতে বেঙ্গালুরুর কালাসিপালিয়া এলাকা থেকে যাত্রা শুরু করে ভলভো বাসটি ৪৪ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে হায়দরাবাদের দিকে আসছিল৷ সে সময় বাসে মোট ৪৯ জন যাত্রী ছিল বলে খবর৷ 

তদন্তকারী অফিসারদের কাছে বাসচালক জানিয়েছেন যে, ভোরের দিকে একটি গাড়িকে ওভারটেক করতে গিয়েই বাসটি রাস্তার ডিভাইডারে ধাক্কা মারে৷ এর জেরে বাসটির জ্বালানি ট্যাঙ্কে বিস্ফোরণ ঘটে সেটিতে আগুন লেগে যায়৷ বাসটির ভিতরেও আগুন ছড়াতে শুরু করলে যাত্রীরা বেরোবার জন্য দরজার কাছে জড়ো হন৷ কিন্ত্ত সে সময় ভলভো বাসটির স্বয়ংক্রিয় ভাবে চালিত দরজা কিছুতেই খোলা যায়নি৷ ফলে জ্বলন্ত বাসের মধ্যেই ৪৪ জন যাত্রীর অসহায় মৃত্যু ঘটে৷ পরে পুলিশকর্মী ও রাজস্ব আধিকারিকরা দেহ উদ্ধার করতে গিয়ে দেখেন, বাসের পিছন দিককার 'এমারজেন্সি এক্সিট'-এর দরজার কাছেই বেশির ভাগ মৃতদেহ পড়ে রয়েছে৷ মৃতদের মধ্যে আইবিএম, গুগ্ল-সহ কয়েকটি সফ্টওয়্যার সংস্থায় কর্মরত মোট পাঁচ জন ইঞ্জিনিয়ার রয়েছেন৷ রয়েছে দু'বছর ও দেড় বছর বয়সি দু'টি শিশুও৷ জানা গিয়েছে, ওই ইঞ্জিনিয়াররা নিজেদের পরিবারের সঙ্গে দিওয়ালি উদযাপনের উদ্দেশ্যেই হায়দরাবাদে আসছিলেন৷ বাসচালক জানিয়েছেন, বাসের একটি টায়ার ফেটে যাওয়ার ফলেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন তিনি৷ এই দাবি সত্যতা খতিয়ে দেখছে পুলিশ৷ 

এই দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং৷ বুধবার নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকারের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী শোকাতুর পরিবারগুলির প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন৷ পাশাপাশি, ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে রাজ্যের অধিকারিকদের দ্রুত কাজে নামার নির্দেশ দিয়েছেন অন্ধ্রের মুখ্যমন্ত্রী কিরণকুমার রেড্ডি৷ অন্ধ্রের পরিবহন মন্ত্রী বত্‍সা সত্যনারায়ণ ঘোষণা করেছেন, নিহতদের পরিবারকে সরকারি ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে৷ নিহতদের নাম ঠিকানার তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে প্রশাসন৷ মহবুবনগরের পুলিশ সুপার নগেন্দ্র কুমার বলেন, 'বেঙ্গালুরু থেকে বাসে ওঠা ২৯ জনের পরিচয় পাওয়া গিয়েছে৷ বাকি যাত্রীদের হিন্দুপুর ও অনন্তপুর থেকে বাসে ওঠানো হয়ে থাকতে পারে৷' 

দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাসটি 'জব্বর ট্রাভেল্স' নামে এক বেসরকারি সংস্থার মালিকানাধীন ছিল৷ হায়দরাবাদ, মুম্বই এবং পুনেতে তাদের অফিস রয়েছে৷ সংস্থার কর্ণধার ইমতিয়াজ খানের কথায়, 'বাসের চালক কিন্ত্ত এ কাজে একেবারেই নতুন নন৷ তিনি খুব ক্লান্ত ছিলেন বলেও তো শুনিনি৷ যাত্রীদের ব্যবহূত কাপড়চোপড় এবং প্লাস্টিকের জিনিসপত্রে আগুন ধরে যাওয়ার ফলে দুর্ঘটনার মাত্রা আরও বেড়েছে মনে হচ্ছে৷' এই ঘটনা সম্পর্কে তদন্ত চালিয়ে দ্রুত রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য মহবুবনগরের জেলা কালেক্টর গিরিজা শঙ্কর এবং পুলিশ সুপার নগেন্দ্র কুমারকে নির্দেশ দিয়েছেন কিরণকুমার রেড্ডি৷ -সংবাদসংস্থা 

বিকল্প জোটের শুরুটা জমল না

বিকল্প জোটের শুরুটা জমল না
convention
পড়ে গেলেন কারাট ও ক্ষিতি।
নয়াদিল্লি: লক্ষ্য, ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলিকে এক করা, কিন্তু সে ফ্রন্ট আদৌ সফল হবে কি না, তার ইঙ্গিত প্রথম দিনের সম্মেলনে অন্তত মিলল না৷

তৃতীয় ফ্রন্ট গঠনের লক্ষ্যে আয়োজিত সম্মেলনে নীতীশ কুমার, মুলায়ম সিং যাদব-সহ চোদ্দটি দলের নেতাদের এক মঞ্চে আনতে পেরেছিলেন বামেরা৷ তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা আসেননি, তবে তাঁর লেখা ভাষণ পড়ে শুনিয়েছেন এআইএডিএমকে নেতা থাম্বিদুরাই৷ অনুপস্থিত তৃণমূল ও বিএসপি৷ 

বুধবার শুধুমাত্র সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর প্রশ্নেই দলগুলি একজোট হয়েছিল৷ নেতৃত্ব নিয়ে যাতে বিতর্ক না হয়, তাই সম্মেলনের সভাপতি করা হয় ঐতিহাসিক ইরফান হাবিবকে৷ এ পর্যন্ত ঠিক পথেই এগোচ্ছিল, কিন্ত্ত নেতাদের বক্তৃতা শুরু হতেই স্পষ্ট হল দলগুলির বিরোধ৷ সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে একসঙ্গে কর্মসূচি নেওয়া বা আন্দোলন করা দূরে থাক, তাঁরা ব্যস্ত ছিলেন নিজেদের কৃতিত্ব জাহির করতে৷ নীতীশ কুমার ও বাবুলাল মারান্ডি ছাড়া কেউই ভবিষ্যতে এই মঞ্চকে টিকিয়ে রেখে কর্মসূচির ভিত্তিতে এগোনোর কথাও বললেন না৷

মুলায়ম সিং যাদব তো প্রথমেই ঘোষণা করে দিলেন, মঞ্চে যে ১৪টি দলের নেতারা আছেন, তার মধ্যে একমাত্র তিনিই সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে আগাগোড়া লড়াই করছেন৷ তাঁকে শুধু বামপন্থীরা সাহায্য করেছে৷ অর্থাত্‍, নীতীশ, বিজেডি, জয়ললিতা, বাবুলাল মারান্ডি, অসম গণপরিষদ, মনপ্রীত বাদল সকলেই যে একসময় বিজেপির সঙ্গে ছিলেন তা বুঝিয়ে দিয়েছেন মুলায়ম৷ এ দিন তালকাটোরা স্টেডিয়ামে সবথেকে বেশি ভিড় জমিয়েছিলেন মুলায়মের সমর্থকেরাই৷ স্লোগান দিতে থাকা সমর্থকদের থামাতে মুলায়মকে বারকয়েক ধমকও দিতে হল৷ তাঁদের দাবি মানতে বাধ্য হলেন সঞ্চালক সীতারাম ইয়েচুরি৷ মুলায়মকে অনেক আগেই ভাষণ দিতে ডাকতে হল৷ তাঁদের 'নেতাজি'র ভাষণ শেষ হওয়ার পর তালকাটোরা অনেকটাই খালি হয়ে গেল৷

তবে মুজফফরনগরের দাঙ্গা এখনও মুলায়মের অস্বস্তির কারণ৷ তার জবাবদিহি দিয়ে জানালেন, তিনি এখন যে ব্যবস্থা নিয়েছেন, তাতে মুসলিমদের মনোবল কমবে না৷ কিন্ত্ত সিপিআই নেতা এ বি বর্ধন জানিয়ে দিলেন, দাঙ্গার পর যাঁরা ত্রাণশিবিরে আছেন, তাঁদের ঘরে ফেরানোর ব্যবস্থা করুন মুলায়ম৷ নীতীশ আবার প্রথমেই বলে দিলেন, 'কোনও দাঙ্গা হলে জেলার ডিএম ও এসপি দায়ী হওয়া উচিত৷ তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷' একমাত্র নীতীশই এ দিন নরেন্দ্র মোদীর নাম না করে তাঁর সাম্প্রদায়িক কর্মসূচি, ফ্যাসিবাদী চরিত্র নিয়ে বলেছেন৷ অন্যরা কোথাও মোদীর নাম পর্যন্ত করেননি৷ 

থাম্বিদুরাইও জয়ললিতার যে ভাষণ পড়লেন, তাতে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের থেকে তামিলনাড়ুতে সরকার গরিবদের জন্য কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তার বিস্তারিত বর্ণনা ছিল৷ পিছিয়ে ছিলেন না দেবগৌড়াও৷ প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন কী করেছিলেন, সে কথা শোনালেন৷

বাবুলাল মারান্ডি বলেন, 'দেশের ৮০ শতাংশ গরিব, পিছিয়ে পড়া মানুষদের সমস্যা সমাধানের জন্য দলগুলি কী ভাবছে তা আগে বলতে হবে৷' প্রকাশ কারাটের দাবি, 'অন্য বিষয়ে দলগুলির মতবিরোধ থাকতে পারে, কিন্ত্ত সাম্প্রদায়িকতার বিরোধিতা নিয়ে সকলে একমত৷ কংগ্রেসের বিরুদ্ধেও একমাত্র কারাটের বক্তৃতাতেই সামান্য বিরোধিতা শোনা গিয়েছে, অন্যরা কংগ্রেসের নামও মুখে আনেননি৷এদিনের সম্মেলনে বাম নেতাদের সংখ্যাই ছিল বেশি৷ উপস্থিত ছিলেন বিমান বসু, ক্ষিতি গোস্বামী, দেবব্রত বিশ্বাস, অবনী রায়ের মতো নেতারা৷

তৃণমূল নেতা মুকুল রায় এ দিন এই সম্মেলন সম্পর্কে বলেন, 'পশ্চিমবঙ্গ ও জাতীয় রাজনীতিতে সিপিএম এখন অপ্রাসঙ্গিক৷ নিজেদের দল রাখতে পারছে না, আবার তৃতীয় ফ্রন্টের কথা বলছে! লোকসভা ভোটের পর সিপিএম বিরল প্রজাতির প্রাণিতে পরিণত হবে৷'

মুজফ্ফরনগরে দাঙ্গায় মৃত ৪, ধৃত ৮

মুজফ্ফরনগরে দাঙ্গায় মৃত ৪, ধৃত ৮
muzaffarnagar
এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: ফের হিংসা মুজফ্ফরনগরে। এবার হিংসার বলি চার। পুলিশ হিংসার ঘটনায় আট জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে ঘটনায় ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।

জানা গিয়েছে, বুধবার ভৌরকলা থানা এলাকায় দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। দু'তরফ থেকেই গুলি চলে। এই ঘটনায় হুসেনপুর কলা গ্রামের তিন যুবকের মৃত্যু হয়। এর পরই ওই তিন যুবকের সম্প্রদায়ের লোকেরা তাঁদের নির্দোষ দাবি করে বুড়ানা থানা ঘেরাও করে। অন্য দিকে ফুগনার হসনপুর গ্রামে দুই দম্পতির ওপর হামলা চালায় কয়েক জন। তাদের প্রত্যেকের মুখই কাপড়ে ঢাকা ছিল। সেই ঘটনায় মহিলার মৃত্যু হয়। তাঁর স্বামীর অবস্থা আশঙ্কাজনক।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, বুধবার সন্ধে ৬টা নাগাদ হামলা চালানো হয় মহম্মদপুর রায়সিং গ্রামের এক প্রাক্তন সেনা জওয়ানের ওপর। সে সময় তিনি নিজের আখের খেতে জল দিতে গিয়েছিলেন। জানা গিয়েছে, তখনই ১০-১১ জন মুখোশ পরা লোকেরা তাঁর ওপর চড়াও হয়। তাঁকে মারধরও করে। অন্য এক চাষি এই ঘটনা দেখে বাকিদের খবর দেয়। এর পরই চাষিরা পিএসি-র জওয়ানদের নিয়ে এলাকায় পৌঁছয়। জওয়ানদের আসতে দেখেই তাঁদের ওপর গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। এর পরই দু'পক্ষের মধ্যে গুলির লড়াই শুরু হয়। ফায়রিংয়ে তিন যুবকের মৃত্যু হয়। তিন জনই একই পরিবারের ছিল বলে জানা গিয়েছে।

ভৌরকলা থানার ওসি জানিয়েছেন, সামান্য বিবাদকে কেন্দ্র করে দুই গ্রাম (মহম্মদপুর রায়সিং এবং হুসেনপুর কলা)-এর মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছন ডিএম এবং এসপি। মেরঠের আইজি ব্রজভূষণ শর্মাও ঘটনাস্থলে যান। মহম্মদপুর রায়সিং গ্রামের ওই প্রাক্তন সেনা জওয়ানের বাড়ি থেকে দু'জনকে আটক করেছে পুলিশ। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

অন্য দিকে ফুগনায়ে বাইক সওয়ার এক দম্পতির ওপর হামলা চালায় কয়েকজন। মহিলার হত্যা করা হয়। তার পর তাঁর স্বামীর ওপরও ছুরি দিয়ে হামলা চালানো হয়। তাঁর স্বামীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। জানা গিয়েছে, তাঁরা ডাক্তার দেখিয়ে ফিরছিলেন, তখনই তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়।

পুলিশ আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, ঘটনায় আট জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মুজফ্ফরনগরের এসএসপি এইচএম সিং জানিয়েছেন, বুড়ানা থানায় ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।

উল্লেখ্য গত বারের দাঙ্গায় মুজফ্ফরনগরে ৬২ জনের মৃত্যু হয়েছিল। মহম্মদপুর রায়সিং গ্রামও সে সময় দাঙ্গা বিধ্বস্ত ছিল। সূত্রের খবর, যে তিন যুবক মারা গিয়েছে, তারা গতবারের দাঙ্গার পর ত্রাণ শিবিরে থাকত।

মৌখিক নির্দেশে কাজে না, আমলাদের সুপ্রিম রায়

মৌখিক নির্দেশে কাজে না, আমলাদের সুপ্রিম রায়
SC
এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: সুপ্রিম কোর্টের একটি নির্দেশই রাজনৈতিক চাপ কমাল আমলাদের ওপর থেকে। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, তাঁদের আমলাদের ন্যূনতম মেয়াদ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি, লিখিত নির্দেশ না-পাওয়া পর্যন্ত, শুধুমাত্র নেতাদের মুখের কথার ওপর নির্ভর করেই আমলাদের কোনও কাজ করা থেকেও বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।

সুপ্রিম কোর্ট লক্ষ করেছে আমলাদের নিশ্চিত মেয়াদ পেশাদারিত্ব, দক্ষতা এবং স্বচ্ছ প্রশাসন বৃদ্ধি করে। সুপ্রিম কোর্ট এ-ও বলেছে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণেই আমলাতন্ত্রে কাজের মান নিম্নমুখী হয়।

পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারকে তিন মাসের মধ্যে একটি নির্দেশিকা জারি করতে বলেছে। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ন্যূনতম ১০ বছরের জন্য আমলাদের কার্যকালের মেয়াদ নিশ্চিত করা হোক।

এমনকি নেতাদের মৌখিক নয়, বরং লিখিত নির্দেশেই কাজ করতে বলেছে সুপ্রিম কোর্ট। যাতে প্রত্যেকের নির্দেশের লিখিত প্রমাণ থাকে।

প্রাক্তন ক্যাবিনেট সেক্রেটারি টিএসআর সুব্রহ্মণ্যম-সহ ৮৩ জন অবসরপ্রাপ্ত আমলার দায়ের করা জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে এই নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত। রায়ের পর তিনি বলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক রায়। আমলারা কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়।
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...

Welcome

Website counter

Followers

Blog Archive

Contributors