Twitter

Follow palashbiswaskl on Twitter

Monday, July 22, 2013

দিদির দলকে জোর লড়াই দেবেন সেই অধীরই

দিদির দলকে জোর লড়াই দেবেন সেই অধীরই

দিদির দলকে জোর লড়াই দেবেন সেই অধীরই
কলকাতা ও বহরমপুর: পাঁচ দফার মধ্যে তিন দফার নির্বাচন ইতিমধ্যেই শেষ৷ যথেষ্ট গর্জালেও, এখনও পর্যন্ত তেমন বর্ষাতে পারেনি বিরোধী বামেরা৷ বরং, প্রায় একতরফা ভোটে এগিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস৷ কিন্ত্ত সোমবার চতুর্থ দফার নির্বাচনে ভোটে মুর্শিদাবাদে অন্তত লড়াইয়ের চেহারাটা ভিন্ন চেহারা নিতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের অনুমান৷ সেই লড়াইয়ের এক কাণ্ডারি অবশ্যই বহরমপুরের সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরি৷ তৃণমূলের অশ্বমেধের ঘোড়া থামানোই শুধু নয়, মাস কয়েক বাদেই লোকসভা ভোটে মুর্শিদাবাদে দলের নিয়ন্ত্রণ কতখানি বজায় রাখা যাবে, আজকের ভোটে সেই পরীক্ষাও অধীরের সামনে৷ সে লড়াইয়ে তিনি এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ, লড়াই শুরুর কয়েক ঘন্টা আগে রবিবার দুপুরে জানিয়ে দিলেন বহরমপুরের কংগ্রেস সাংসদ এবং রেল প্রতিমন্ত্রী৷

এবারের ভোটের লড়াইয়ে এখনও মুর্শিদাবাদে বিশেষ খাপ খুলতে পারেনি তৃণমূল৷ আর তা সেই অধীর চৌধুরিরই কারণেই৷ যদিও কংগ্রেস ভাঙানোর পুরানো খেলা সেখানেও চালিয়েছে শাসক দল৷ অধীরের এক সময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হুমায়ুন কবীরকে দলে টেনে মন্ত্রী করলেও ভোটে জিতিয়ে আনতে পারেনি তৃণমূল কংগ্রেস৷ তারপরেও পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে কংগ্রেসের প্রায় দশজন জেলা পরিষদ সদস্যকে নিজেদের দিকে টেনে নিয়েছে তৃণমূল৷ কিন্ত্ত এবারের ভোটে সেই হিসাবও মিটিয়ে দিতে বদ্ধপরিকর বহরমপুরের স্ট্রংম্যান৷

মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের দলীয় সংগঠন দুর্বল, কিন্ত্ত শাসক দলের সঙ্গে রয়েছে প্রশাসন৷ যে প্রশাসনকে দলের স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ রাজ্যে সামগ্রিকভাবেই যেমন তুলেছে বামেরা, তেমনই মুর্শিদাবাদের ক্ষেত্রে একই অভিযোগ অধীর চৌধুরিরও৷ তাঁর বক্তব্য, 'এই জেলায় তৃণমূলের সংগঠন না থাকায় পুলিশকে সঙ্গে নিয়েই তৃণমূল আমাদের কর্মীদের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে৷ এমনকি কংগ্রেস কর্মীদের গ্রাম ছাড়াও করে দিচ্ছে৷'
আজ মন্ত্রী বলে নন,ভোটের দিন বরাবর বহরমপুরের বাড়িতেই থাকেন অধীর৷ আজও হয়তো অন্যথা হবে না সে রীতির৷ কোথায় প্রয়োজনে কী ব্যবস্থা নিতে হবে কংগ্রেস কর্মীদের তা ফোনেই নির্দেশ দেবেন অধীরবাবু৷ তবে সংগঠন মুখ থুবড়ে পড়লে কোনও জারিজুরিই যে খাটে না, তা বিলক্ষণ জানেন পোড়-খাওয়া এই রাজনীতিক৷ তাই গত একমাস ধরেই দিল্লি ছেড়ে, ভোর থেকে রাত পর্যন্ত অধীর চষে বেড়িয়েছেন মুর্শিদাবাদের এমাথা-ওমাথা৷ জেলায় দলের ১৪ জন বিধায়ককেও নির্দেশ দিয়েছেন মাটি কামড়ে পড়ে থাকার৷ পুলিশকে ব্যবহার করে যেখানে আঘাত হানতে চেয়েছে শাসক দল, সেখানেই পথ অবরোধ, পাল্টা আক্রমণ, পাল্টা মামলার নিদানও ছিল তাঁর৷ চতুর্থ দফার ভোটের আগে মুর্শিদাবাদের দুর্গ সামলাতে সব ঘুঁটিই সাজিয়েছেন নিজের হাতে৷ কারণ এখনো মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে তিনিই শেষ কথা৷

বিগত দেড় দশকে তাঁরই উত্থানের কারণে যে মুখ থুবড়ে পড়েছে কংগ্রেস, তা বেশ জানেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যেপাধ্যায়ও৷ কিন্ত্ত নানাভাবে চেষ্টা করলেও এখনো মুর্শিদাবাদে কংগ্রেসের দুর্গে যে তিনি বিশেষ শক্ত আঘাত হানতে পারেননি৷ আর সে শুধু অধীর চৌধুরিরই কারণে৷ তাই তাঁর আক্রমণের পয়লা নম্বর লক্ষ্যও কংগ্রেসের এই নেতা৷ মুর্শিদাবাদ তাই দেখতে চলেছে এমন এক যুদ্ধ, যেখানে দু-পক্ষ একে অন্যের শক্তি ও দুর্বলতা সম্পর্কে সম্যকভাবে অবহিত৷

মুর্শিদাবাদে তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য পঞ্চায়েতে দ্বিতীয় দলও নয়৷ এক আসনের ব্যবধানে গতবার এই জেলা পরিষদ দখল করেছিল বামেরাই৷ তবে এবার জেলা পরিষদের আসন সংখ্যা ৬৩ থেকে বেড়ে হয়েছে ৭০টি৷ জেলা পরিষদের সদস্য ছাড়াও বিধায়ক এবং সাংসদদের ও ভোটাধিকার থাকে জেলা পরিষদে৷ সে নিরিখে এবারও কংগ্রেসই যে এগিয়ে তা স্বীকার করছেন সিপিএমের এক জেলা কমিটির সদস্যও৷ কারণ কোনওভাবে ৩৬টি আসন পেয়ে খাতায় কলমে বামেরা যদি জেলা পরিষদ দখল করেও, মূল কর্মাধ্যক্ষ পদগুলি কিন্ত্ত চলে যাবে কংগ্রেসেরই হাতে৷ ওয়াকিবহাল মহলেরও ধারণা, মুর্শিদাবাদে এগিয়ে কংগ্রেসই৷ তৃণমূলের জেলা সভাপতি মহম্মদ আলির দাবি, তাঁরা পাবেন ২০টি আসন৷ কিন্ত্ত রাজনৈতিক মহলের ধারণা, গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে তৃণমূল কংগ্রেস খানিকটা এগতে পারলেও, জেলা পরিষদে বিশেষ সুবিধা করতে পারবে না তারা৷ যদিও এই জেলায় অধীর 'মিথ' মিথ্যা প্রমাণ করতে প্রতি ইঞ্চিতে লড়াই চালানোই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও লক্ষ্য৷

No comments:

Post a Comment

Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...

Welcome

Website counter

Followers

Blog Archive

Contributors