Twitter

Follow palashbiswaskl on Twitter

Thursday, June 20, 2013

সোনাগাছির প্রসারে অতিষ্ঠ, চিঠি মমতাকে

সোনাগাছির প্রসারে অতিষ্ঠ, চিঠি মমতাকে

তাপস প্রামাণিক

মূল সোনাগাছি ছাড়িয়ে আশপাশের বসতি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে যৌন ব্যবসা৷ যৌনপল্লির এই 'শ্রীবৃদ্ধি'তে বিপন্ন বোধ করছেন পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের বাসিন্দারা৷ স্বাভাবিক জীবন-যাপনই অসম্ভব হয়ে উঠেছে তাঁদের৷ সমস্যার কথা পুলিশে জানিয়েও ফল মেলেনি৷ ভোটের কথা ভেবে মুখ ফিরিয়েছেন রাজনৈতিক নেতারাও৷ শেষ আশা হিসাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শরণাপন্ন হয়েছেন সাধারণ মানুষ৷

বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, এতদিন সোনাগাছির নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ ছিল যৌন ব্যবসা৷ কিন্ত্ত চৌহদ্দি বাড়তে বাড়তে এখন আশপাশের বসতি এলাকায় ঢুকে পড়ছে৷ অভিযোগ, মোটা টাকা দিয়ে ঘর ভাড়া নিয়ে সেখানেই চলছে যৌন ব্যবসা৷ যৌনকর্মী, খদ্দের, দালালদের নিয়মিত যাওয়া-আসা চলছে সে-সব বাড়িতে৷ সন্ধ্যার পর থেকেই রাস্তায় চোখে পড়ছে দালালদের জটলা৷ পথচলতি সাধারণ মানুষজনকেও টানাহ্যাঁচরা করছে তারা৷ এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে৷ এর থেকে পরিত্রাণ পেতেই মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে চিঠি দিয়েছেন বাসিন্দারা৷ 

এশিয়ার বৃহত্তম যৌনপল্লি হিসাবে সোনাগাছির পরিচিতি বহু দিনের৷ তবে এতদিন যৌন ব্যবসার পরিধি সীমাবদ্ধ ছিল মূলত দূর্গাচরণ মিত্র স্ট্রিট এবং গৌরীশঙ্কর লেনেই৷ সেখানে অনেক বাড়িতেই যৌনকর্মীরা দীর্ঘদিন স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন৷ সোনাগাছি ছাড়াও বউবাজারের হাড়কাটা গলি, কালীঘাট, খিদিরপুর এবং গড়িয়ায় যৌনপল্লি রয়েছে৷ গত কয়েক বছরে ওই সব এলাকায় যৌনকর্মীর সংখ্যা হ্রাস পেলেও সোনাগাছি ক্রমেই বাড়ছে৷ যৌনকর্মীরাও ছড়িয়ে পড়ছেন আশপাশের অঞ্চলে৷ সোনাগাছির আশপাশে যেখানেই পুরোনো বাড়ি ভেঙে ফ্ল্যাট তৈরি হচ্ছে, সেখানে নতুন করে আস্তানা তৈরি হচ্ছে যৌনকর্মীদের৷ যৌন ব্যবসায় ঢুকে পড়েছে কিছু ব্যবসায়ীও৷ তারাই মোটা টাকা দিয়ে সোনাগাছির আশপাশের এলাকায় একের পর এক ফ্ল্যাট কিনে যৌন ব্যবসার প্রসার ঘটাচ্ছে৷ যৌনকর্মীদের রাখা হচ্ছে ওই সব ফ্ল্যাটে৷ অভিযোগ, সোনাগাছি লাগোয়া অবিনাশ কবিরাজ স্ট্রিট, মসজিদ বাড়ি স্ট্রিট, এমনকী সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের উপর বেশ কয়েকটি আবাসিক ফ্ল্যাটে রমরমিয়ে চলছে যৌন ব্যবসা৷ বিপাকে পড়ছেন ওই সব অঞ্চলের আম নাগরিক৷

মুখ্যমন্ত্রীকে পাঠানো চিঠিতে অবিনাশ কবিরাজ স্ট্রিটের অসহায় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, কারও বাড়িতে আত্মীয়স্বজন এলে খদ্দের ভেবে তাঁদেরও টানাটানি করছে দালালরা৷ সম্মান খোওয়ানোর ভয়ে আত্মীয়-পরিজন আর আসতে চাইছেন না৷ বাড়ির ছেলে-মেয়েরা সন্ধ্যার পর রাস্তায় বেরোতে ভয় পাচ্ছে৷ প্রতিবাদ করলেই দালালদের শাসানি হজম করতে হচ্ছে৷

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দার আক্ষেপ, 'ভেবেছিলাম পরিবর্তনের পর নতুন সরকার আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কথা ভেবে সমস্যা মেটাতে উদ্যোগী হবে৷ কিন্ত্ত পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে৷ থানায় ডেপুটেশন দিয়েও কাজ হয়নি৷ উল্টে দালালদের হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে৷ রাজনৈতিক নেতারা 'দেখছি' বলেই কাটিয়ে দিচ্ছেন৷ তাই মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছি৷' স্থানীয় ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিশ্বনাথ দাস সমস্যার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন৷ তাঁর মন্তব্য, 'আমিও চিঠির কপি পেয়েছি৷ যেখানে যা বলার বলেওছি৷ কিন্ত্ত কেউ ফ্ল্যাট কিনলে আটকানো তো যায় না৷ প্রশাসনেরই দায়িত্ব নেওয়া উচিত৷'

No comments:

Post a Comment

Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...

Welcome

Website counter

Followers

Blog Archive

Contributors